মাগুরা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব সাকের হোসেনের (৫০) রহস্যজনক মৃত্যুতে গোটা মাগুরা জুড়ে শোক ও তীব্র ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিক অবস্থায় এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করা হলেও, গোসলের সময় মাথায় গুলির মতো ক্ষতচিহ্ন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসকদের দ্বারা বুলেটের অংশ উদ্ধারের পর এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, আজ বুধবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফজরের নামাজ শেষ করে সাকের হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় তাঁর কর্মস্থল বাস কাউন্টারে যান। কিছুক্ষণ পর সেখানে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে নিজ বাড়িতে দাফনের পূর্বে গোসল করানোর সময় স্বজনরা তাঁর মাথার পেছনের অংশে একটি গভীর ছিদ্র দেখতে পান। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাঁর মাথার ভেতর থেকে গুলির সদৃশ বস্তু ও আলামত উদ্ধার করেন। একই সাথে তাঁর মগজ/ঘিলু বের হয়ে আসার বিষয়টিও শনাক্ত করা হয়, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভোর পাঁচটার পর তাঁরা একটি গুলির তীব্র শব্দ শুনতে পান। এর পরপরই সাইলেন্সারবিহীন একটি মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে ওই এলাকা ত্যাগ করে চলে যায়। শুরুতে বিষয়টি কেউ গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে সাকের হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের ধারণা স্পষ্ট হয় যে, ওই মোটরসাইকেল আরোহী বা আরোহীরাই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে সটকে পড়েছে।
এদিকে সাকের হোসেনের আকস্মিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে মাগুরা শহরের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোক ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। এলাকা জুড়ে পরিচিত অত্যন্ত সদালাপী, পরোপকারী ও প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। বিচার দাবিতে মাগুরা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অবিলম্বে জড়িত ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় এ বিষয়ে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামতে যদি এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাতকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
বর্তমানে মাগুরা শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. সরকার মো.আবুল কালাম আজাদ। সম্পাদক : সরকার মো. আব্দুল মা'বুদ জীবন। প্রকাশক : মোছা. বর্না খাতুন। নির্বাহী সম্পাদক : টুটুল হুমায়ুন। ঠিকানা : বাড়ী, নীল অপরাজিতা, ২১৯/৪- ক দক্ষিণ পীরেরবাগ, আগারগাঁও ঢাকা, যোগাযোগ : +৮৮০১৮১৪৯৯০৫৪৬, ইমেইল : smjiboneditor@gmail.com
© All rights reserved © NagorikKontho