ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শাফায়াত রাব্বি আরাফাতকে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহিনুর রহমান শাহিনের ঘরে পুত্রসন্তান, হাসপাতালে শুভেচ্ছা জানাতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিষাক্ত মদপানে শ্রীপুরে দুই যুবকের করুণ মৃত্যু, পরিবারে শোকের ছায়া সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণদের সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ওসি জাহাঙ্গীর আলমের আচমকা প্রত্যাহারে শাহআলীজুড়ে উদ্বেগ: নেপথ্যে কি তবে অপরাধী চক্রের ষড়যন্ত্র!

বিশেষ প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের হঠাৎ প্রত্যাহারে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের একজন নিষ্ঠাবান ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ওসির বিদায়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাহআলী থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর মেয়াদে মিরপুর ও শাহআলী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং থানায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক তদবির ও অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের জন্য তিনি আতঙ্কে পরিণত হন।

​উল্লেখ থাকে যে,গত ডিসেম্বরে ওসি জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার আগে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বেশ নাজুক। পুলিশ আইন প্রয়োগ করতে গেলে অপরাধীরা মব তৈরি করে থানা ঘেরাও ও ভাঙচুর পর্যন্ত চালিয়েছিল। জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার পরও একবার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একইভাবে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে একটি গোষ্ঠী। তবে এবার আর পিছু হটেননি তিনি; শক্ত হাতে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেন। তাঁর এই দৃঢ়তার পর থেকেই শাহআলী থানা পুলিশের হারিয়ে যাওয়া মনোবল পুনরায় চাঙ্গা হয় এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি ঘটে।

পরপর কয়েকটি বড় অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া স্থানীয় অপরাধী ও প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের মূল টার্গেটে পরিণত হন এই কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, ইতিপূর্বেও একাধিকবার তাঁকে সরানোর ষড়যন্ত্র করা হলেও সাফল্য পায়নি চক্রটি। তবে সম্প্রতি ‘রাড্ডা’ সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে ইস্যু করে কুচক্রী মহলটি তাঁকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​এলাকার বাসিন্দারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, রাড্ডার বিষয়টি ছিল কেবল একটি বাহানা। আসল উদ্দেশ্য ছিল ফুটপাত দখল ও মাদকের রাজত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। যে সিন্ডিকেটের কায়েমি স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, তাদেরই প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও চক্রান্তে এই প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের কাছে এক জনবান্ধব ও সেবামুখী কর্মকর্তা হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু একজন সৎ ও নীতিবান কর্মকর্তার এমন আকস্মিক বিদায়ে শাহআলী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবার সেই পুরানো অপরাধীদের দখলে চলে যাবে কি না-এখন সেটাই এলাকাবাসীর মূল দুশ্চিন্তার বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩২ বার পড়া হয়েছে

ওসি জাহাঙ্গীর আলমের আচমকা প্রত্যাহারে শাহআলীজুড়ে উদ্বেগ: নেপথ্যে কি তবে অপরাধী চক্রের ষড়যন্ত্র!

আপডেট সময় ১০:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের হঠাৎ প্রত্যাহারে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের একজন নিষ্ঠাবান ও সাহসী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ওসির বিদায়ে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাহআলী থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর মেয়াদে মিরপুর ও শাহআলী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালিত হয়। বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং থানায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক তদবির ও অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ার কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের জন্য তিনি আতঙ্কে পরিণত হন।

​উল্লেখ থাকে যে,গত ডিসেম্বরে ওসি জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার আগে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বেশ নাজুক। পুলিশ আইন প্রয়োগ করতে গেলে অপরাধীরা মব তৈরি করে থানা ঘেরাও ও ভাঙচুর পর্যন্ত চালিয়েছিল। জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার পরও একবার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে একইভাবে থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে একটি গোষ্ঠী। তবে এবার আর পিছু হটেননি তিনি; শক্ত হাতে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেন। তাঁর এই দৃঢ়তার পর থেকেই শাহআলী থানা পুলিশের হারিয়ে যাওয়া মনোবল পুনরায় চাঙ্গা হয় এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি ঘটে।

পরপর কয়েকটি বড় অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া স্থানীয় অপরাধী ও প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের মূল টার্গেটে পরিণত হন এই কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, ইতিপূর্বেও একাধিকবার তাঁকে সরানোর ষড়যন্ত্র করা হলেও সাফল্য পায়নি চক্রটি। তবে সম্প্রতি ‘রাড্ডা’ সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে ইস্যু করে কুচক্রী মহলটি তাঁকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​এলাকার বাসিন্দারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, রাড্ডার বিষয়টি ছিল কেবল একটি বাহানা। আসল উদ্দেশ্য ছিল ফুটপাত দখল ও মাদকের রাজত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। যে সিন্ডিকেটের কায়েমি স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, তাদেরই প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও চক্রান্তে এই প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

​দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের কাছে এক জনবান্ধব ও সেবামুখী কর্মকর্তা হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু একজন সৎ ও নীতিবান কর্মকর্তার এমন আকস্মিক বিদায়ে শাহআলী এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবার সেই পুরানো অপরাধীদের দখলে চলে যাবে কি না-এখন সেটাই এলাকাবাসীর মূল দুশ্চিন্তার বিষয়।