তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই একে আজাদ লেলিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা, মণিকানন স্কুলের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক চক্রান্তের কড়া জবাব

কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠীর চালানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ করা প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন শাহ্আলী এলাকার সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠক এবং মণিকানন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী একে আজাদ লেলিন। সম্প্রতি ‘রাডডা’ (RADDA) সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণীত বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এর পেছনের রাজনৈতিক আক্রোশ ও মণিকানন স্কুলের দুর্নীতির নানা তথ্য উন্মোচন করেছেন।
একে আজাদ লেলিন জানান, রাডডার ঘটনার সময় তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। উক্ত ঘটনার সাথে তাঁর কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে তাঁর উপস্থিতির কোনো সিসিটিভি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণও নেই। তদন্তের স্বার্থে এতদিন নীরব থাকলেও ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাশেম ও তাঁর অনুসারীরা মনগড়া অভিযোগ তুলে ব্যক্তিগত আক্রমণে লিপ্ত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
লেলিনের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের মূল কারণ হলো এলাকার অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
১. জামায়াত অফিস ও হামলার প্রতিবাদ: মণিকানন স্কুলের ভেতরে জামায়াতে ইসলামের গোপন কার্যালয় পরিচালনা এবং ঐতিহ্যবাহী শাহ্আলী মাজারের ভেতর সাধারণ মানুষের ওপর আকস্মিক হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার পর থেকেই সংসদ সদস্যের ক্ষোভের শিকার হতে হয়।
২. স্কুলের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ: ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী ড. মইন এবং তাঁর সহযোগীদের মণিকানন স্কুলের নানা দুর্নীতি ও অপকর্মের তথ্য-প্রমাণসহ সোচ্চার হওয়ার কারণেই এই রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মণিকানন স্কুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেলিন শাহ্আলী এলাকার মণিকানন স্কুলের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অনিয়ম তুলে ধরেন:
যোগ্যতাহীন প্রধান শিক্ষক: সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক হারুন অবৈধভাবে পদে বহাল রয়েছেন।
অবৈধ পরিচালনা কমিটি: নিয়মবহির্ভূতভাবে স্কুলের বর্তমান পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিচালনা কমিটি বসানো হয়েছে।
কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য: প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত ড. মইনের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশট ও প্রমাণপত্র সংরক্ষিত আছে।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্কুলের কক্ষ ব্যবহার: গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্কুলের শ্রেণিকক্ষগুলোকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
চলমান সরকারি তদন্ত: স্কুলের এসব দুর্নীতির বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং সমাজসেবা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে পৃথক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংসদ সদস্যের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও জনগণের দাবি
সম্প্রতি স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্যের করা সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে আজাদ লেলিন বলেন, “তথ্যপ্রমাণ ছাড়া মনগড়া তথ্য পরিবেশন না করে অনতিবিলম্বে মণিকানন স্কুলের দুর্নীতিগ্রস্ত পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে। একই সাথে দুর্নীতিবাজ ড. মইন ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এমপি সাহেবের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, মিথ্যা অপপ্রচার ও চরিত্রহনন করে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। মণিকানন স্কুলের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং শাহ্আলী এলাকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে তিনি আইনি ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে যাবেন





















