কালীগঞ্জে চাঁদাবাজির খবর প্রকাশ করায় ৭১ টিভির সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি

ঝিনাইদহ এর কালীগঞ্জের গাজীর বাজারে এক চা দোকানির কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় প্রতিবাদ করা এবং সেই সংক্রান্ত খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার জেরে ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজ ও তাঁর পরিবারকে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্থানীয় চাঁদাবাজ রাজ্জাক মোল্লা সাংবাদিকের বড় ভাইয়ের ফোনে কল করে এ হুমকি প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত রবিবার ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে কালীগঞ্জ বাস কাউন্টারে অপেক্ষাকালে সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজের মোবাইলে (01347-099047) গাজীর বাজারের চা দোকানি শিমুল ফোন করেন। শিমুল অভিযোগ করে জানান, গাজীর বাজারের রাজ্জাক মোল্লা তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা না দিলে তাঁকে গাজীর বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি রাজ্জাক মোল্লা অত্যন্ত অশালীন ভাষায় প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
এমতাবস্থায় সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজ ভুক্তভোগী শিমুলকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন। সেই রাতে শিমুল কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে সাক্ষাৎ করলে ওসি তাঁকে সেকেন্ড অফিসার নাজমুলের নিকট পাঠান। রাতে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া না থাকায় সেকেন্ড অফিসার পরদিন সকাল ১১টায় থানায় এসে অভিযোগ দিতে বলেন। থানা থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে শিমুলের সাক্ষাৎকার ও বক্তব্য রেকর্ড করেন মাজেদুল ইসলাম সবুজ।
পরবর্তীতে ওই বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাক মোল্লা ও তাঁর লোকজন শিমুলকে তাঁর চায়ের দোকান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরপর সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাপ সৃষ্টি করে বলানো হয় যে, সাংবাদিক সবুজ তাঁকে জোরপূর্বক কথাগুলো বলায়ছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে অভিযুক্ত রাজ্জাক মোল্লা তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর (01779-893805) থেকে সাংবাদিক সবুজের বড় ভাই তরিকুল ইসলাম সজলের মোবাইলে কল দেন। ফোনালাপে রাজ্জাক মোল্লা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন—সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজ যদি এলাকায় বা গাজীর বাজারে যান, তবে তাঁকে মান-সম্মানহানি, মারধর এবং সরাসরি মেরে ফেলা হবে।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজ বলেন,
”একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সত্য তুলে ধরাই আমার কাজ। কিন্তু এর জেরে আমাকে ও আমার পরিবারকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তারা আমার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি আমার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
বর্তমানে এই ঘটনায় সাংবাদিক মাজেদুল ইসলাম সবুজ ও তাঁর পরিবার চরম জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন। মুক্ত সাংবাদিকতা রক্ষা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
























