ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শাফায়াত রাব্বি আরাফাতকে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা নগরঘাটা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহিনুর রহমান শাহিনের ঘরে পুত্রসন্তান, হাসপাতালে শুভেচ্ছা জানাতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা বিষাক্ত মদপানে শ্রীপুরে দুই যুবকের করুণ মৃত্যু, পরিবারে শোকের ছায়া সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণদের সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কুসংস্কার ভেঙে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পেঁচা: মানুষের কল্যাণে এক নীরব প্রহরী -আবুল কালাম আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা রহস্যময় পাখি পেঁচা লোককথা ও কুসংস্কারের কারণে যাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ বাস্তবে পেঁচা কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী প্রাণী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁচা সংরক্ষণ করা মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখা।
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, কৃষি লেখক ও কথক এবং বাংলাদেশ বেতার, সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পেঁচা মানুষের অজান্তেই কৃষকের নীরব বন্ধু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, অথচ কুসংস্কারের কারণে এই উপকারী পাখিটি আজও অবহেলার শিকার।”
কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০ থেকে ৩,০০০টি ইঁদুর ভক্ষণ করতে পারে। ফলে ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে কমে কীটনাশকের ব্যবহার, যা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। এ কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:

পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইঁদুরের অতিবৃদ্ধি রোধ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমায়। পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ সহায়তা
ইঁদুর ও ছুঁচো প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও সালমোনেলার মতো মারাত্মক রোগের বাহক। পেঁচা এসব প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের মধ্যে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচা:
পেঁচার অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা ও নিঃশব্দে উড়ার কৌশল নিয়ে গবেষণা করে নাইট ভিশন প্রযুক্তি, সেন্সর, রাডার সিস্টেম এবং নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নে পেঁচাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক:
পেঁচা থাকলে কৃষিজমিতে ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসলের ক্ষতি হ্রাস পায় এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।
কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ জরুরি:
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এর ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা। পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা।
শেষে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“পেঁচা বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০২:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
৯৪ বার পড়া হয়েছে

কুসংস্কার ভেঙে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় পেঁচা: মানুষের কল্যাণে এক নীরব প্রহরী -আবুল কালাম আজাদ

আপডেট সময় ০২:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা রহস্যময় পাখি পেঁচা লোককথা ও কুসংস্কারের কারণে যাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ বাস্তবে পেঁচা কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী প্রাণী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁচা সংরক্ষণ করা মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বড় ধরনের অবদান রাখা।
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, কৃষি লেখক ও কথক এবং বাংলাদেশ বেতার, সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পেঁচা মানুষের অজান্তেই কৃষকের নীরব বন্ধু হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, অথচ কুসংস্কারের কারণে এই উপকারী পাখিটি আজও অবহেলার শিকার।”
কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০ থেকে ৩,০০০টি ইঁদুর ভক্ষণ করতে পারে। ফলে ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি ক্ষেতের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে কমে কীটনাশকের ব্যবহার, যা পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। এ কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:

পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইঁদুরের অতিবৃদ্ধি রোধ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমায়। পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ সহায়তা
ইঁদুর ও ছুঁচো প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও সালমোনেলার মতো মারাত্মক রোগের বাহক। পেঁচা এসব প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের মধ্যে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচা:
পেঁচার অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা ও নিঃশব্দে উড়ার কৌশল নিয়ে গবেষণা করে নাইট ভিশন প্রযুক্তি, সেন্সর, রাডার সিস্টেম এবং নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি উন্নয়নে পেঁচাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক:
পেঁচা থাকলে কৃষিজমিতে ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসলের ক্ষতি হ্রাস পায় এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।
কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ জরুরি:
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। এর ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা। পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা।
শেষে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,
“পেঁচা বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”
লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা