উল্লাপাড়ায় আমন ধানে পোকার আক্রমণ, কীটনাশকের খরচে দিশেহারা কৃষক

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রোপা-আমন ধানে ক্ষতিকর পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পোকা দমনে একের পর এক কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় চাষিরা। ধানে এখনও থোর (শিষ বের হওয়ার পূর্বাবস্থা) না আসতেই কয়েকবার কীটনাশক দিতে হয়েছে। ফসল বাঁচাতে আরও বিষ প্রয়োগ করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ফলে অতিরিক্ত ওষুধ ও বিষের খরচে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার আমন চাষিরা। উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে রোপা আমন ধানের সবুজ গাছ থাকলেও তাতে হানা দিয়েছে ক্ষতিকর পাতা ও মাজরা পোকা। কৃষকরা মাঠের পোকা দূর করতে বাজার থেকে চড়া মূল্যে বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক কিনে এনে ক্ষেতে ছিটাচ্ছেন। তবে বারবার বিষ প্রয়োগের পরেও পোকার আক্রমণ থামছে না। দুই পোকার এই ভয়াবহ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ভদ্রকোল গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক শামছুল আলম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এবার ধানে পাতা পোকা আর মাজরা পোকার আক্রমণে আমরা পুরো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ধানে এখনও থোরই আসেনি, অথচ এর মধ্যেই তিনবার বিষ দেওয়া শেষ। পোকা যেভাবে ধরছে, তাতে আরও দুইবার বিষ দেওয়া লাগতে পারে। এত টাকা খরচ করে আবাদ করার পর এবার আসল চালান তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।” তার মতো ওই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকেরই এখন একই দশা। উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, মূল পুঁজি ঘরে তোলা নিয়েই শঙ্কায় আছেন তারা। এদিকে মাঠ পর্যায়ে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষি বিভাগ তৎপর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, “ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাই দমনের জন্য আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত আছেন। তারা নিয়মিত কৃষকদের সঠিক নিয়মে সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি দ্রুতই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।”তবে কৃষকদের দাবি, চড়া মূল্যের ভেজাল কীটনাশক বাজার থেকে দূর করতে এবং সঠিক বালাই দমনে কৃষি কর্মকর্তারা যেন মাঠে এসে সরাসরি তদারকি ও দিকনির্দেশনা বৃদ্ধি করেন।
























