শাহ আলীতে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি মনিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

প্রযুক্তির সহায়তায় কারওয়ান বাজার থেকে আটক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর কারাগারে
রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন এলাকায় স্ত্রী হাজেরা বেগমকে হত্যার অভিযোগে পলাতক স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম ওরফে মিনার হোসেনকে (৪৩) র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে শাহ আলী থানাধীন চিলড্রেন পার্কের পশ্চিম পাশে পানির পাম্পসংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাজেরা বেগমকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করলে কন্ঠনালী কেটে গেলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার পর মনিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।
পরে খবর পেয়ে শাহ আলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় মনিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পলাতক মনিরুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত হাজেরার সঙ্গে মনিরুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। বিয়ের পর তারা কিছুদিন বনানী এলাকায় বসবাস করেন। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা শাহ আলী এলাকার ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হাজেরার কাছে থাকা অর্থ নিয়ে দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের পর মনিরুল ইসলামকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নিহত হাজেরার হত্যাকাণ্ডকে আমরা সাধারণভাবে নিইনি।” হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























