ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনতা ব্যাংক পিএলসি’র নতুন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) মো: ইকবাল হোসেন খাঁ গাবতলী-মিরপুরে ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি: রাসেলকে জড়ানো নিয়ে আপত্তি, বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন,সভাপতি ইমামুল ইসলাম সিকদার রনি, সাধারণ সম্পাদক মামুন মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া

সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত ওসি শফিকুল ইসলামকে ঘিরে কিছু কথা

শাহিনুর ইসলাম শাহিন

সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ উপস্থাপন না করে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমাদের পর্যবেক্ষণে, ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম একজন সৎ, নীতিবান ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার আন্তরিকতাও প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জন্য ওসি শফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে জেলাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতিও সবার সামনে রাখা প্রয়োজন।

জানা যায়, ওসি শফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর থানায় যোগদান করেন এবং পরদিন সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মামলাসহ থানার সামগ্রিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার জন্য তিনি খুব বেশি সময় পাননি—এমনটিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে বলা যায়, প্রেস ব্রিফিংটি তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন কিংবা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বক্তব্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। তবে একজন নবাগত কর্মকর্তা হিসেবে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা না করে সরলভাবে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক তৈরি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।

তার বক্তব্যের ধরন ও শারীরিক অভিব্যক্তি লক্ষ্য করলে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো বক্তব্যের পরিবর্তে সহজ-সরলভাবে দেওয়া একটি বক্তব্য হিসেবেও দেখার সুযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার আগের ওসি মাহমুদ সাহেব দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মাথায় ডিবিতে বদলি হয়েছেন। আর বর্তমান ওসি শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাত্র দুই দিন আগে। একজন নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া, থানার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।

একটি বক্তব্যের ভুল বা অসাবধানতাকে কেন্দ্র করে যদি বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তার মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও পুলিশি সেবার ওপরও পড়তে পারে।

তাই সমালোচনার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আসুন, একটি বক্তব্যের ভুলকে কেন্দ্র করে বিভেদ না বাড়িয়ে নবাগত ওসি শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করি।

সমালোচনা হোক গঠনমূলক, সহযোগিতা হোক আন্তরিক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তির সাতক্ষীরায় অশান্তি দূর হোক, ফিরে আসুক শান্তি ও স্বস্তি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত ওসি শফিকুল ইসলামকে ঘিরে কিছু কথা

আপডেট সময় ০৯:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমে দেওয়া তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ উপস্থাপন না করে বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমাদের পর্যবেক্ষণে, ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম একজন সৎ, নীতিবান ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তার আন্তরিকতাও প্রশংসনীয়।

সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জন্য ওসি শফিকুল ইসলাম ইতোমধ্যে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে জেলাবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতিও সবার সামনে রাখা প্রয়োজন।

জানা যায়, ওসি শফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর থানায় যোগদান করেন এবং পরদিন সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মামলাসহ থানার সামগ্রিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার জন্য তিনি খুব বেশি সময় পাননি—এমনটিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে বলা যায়, প্রেস ব্রিফিংটি তিনি এড়িয়ে যেতে পারতেন কিংবা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বক্তব্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। তবে একজন নবাগত কর্মকর্তা হিসেবে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা না করে সরলভাবে দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক তৈরি করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেটিও ভেবে দেখা দরকার।

তার বক্তব্যের ধরন ও শারীরিক অভিব্যক্তি লক্ষ্য করলে এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো বক্তব্যের পরিবর্তে সহজ-সরলভাবে দেওয়া একটি বক্তব্য হিসেবেও দেখার সুযোগ রয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার আগের ওসি মাহমুদ সাহেব দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৪০ দিনের মাথায় ডিবিতে বদলি হয়েছেন। আর বর্তমান ওসি শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাত্র দুই দিন আগে। একজন নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া, থানার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে কিছুটা সময় দেওয়া প্রয়োজন।

একটি বক্তব্যের ভুল বা অসাবধানতাকে কেন্দ্র করে যদি বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তার মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ ও পুলিশি সেবার ওপরও পড়তে পারে।

তাই সমালোচনার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ, দায়িত্ব পালনের সময় এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

সাতক্ষীরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আসুন, একটি বক্তব্যের ভুলকে কেন্দ্র করে বিভেদ না বাড়িয়ে নবাগত ওসি শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করি।

সমালোচনা হোক গঠনমূলক, সহযোগিতা হোক আন্তরিক—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তির সাতক্ষীরায় অশান্তি দূর হোক, ফিরে আসুক শান্তি ও স্বস্তি।