কৃষকের বরাদ্দের সার গেল অন্য ইউনিয়নে, নালি ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিবালয় ইউনিয়নের অনুমোদিত সার ডিলারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স নালী ট্রেডার্স’-এর বিরুদ্ধে সরকারি সার অন্য ইউনিয়নে পাচার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে আইন অনুযায়ী ওই ডিলারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো সংশ্লিষ্ট এক কৃষককে ডেকে এনে সমঝোতার মাধ্যমে সার ফেরত দিয়ে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কৃষি বিভাগের এই রহস্যজনক ভূমিকায় স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যখন শিবালয় ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভর্তুকির সার শিমুলিয়া ইউনিয়নে পাচারকালে, উপজেলার পাশেই ঢাকা আরিচা মহাসড়কে পিডিবির সামনে থেকে স্থানীয় জনতার হাতেনাতে ধরা পড়ে। সার গুলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিসে সামনে জব্দ করে গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখেন। নিয়মানুযায়ী অবৈধভাবে সার স্থানান্তরের অপরাধে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মূল হোতা ‘মেসার্স নালি ট্রেডার্স’কে সম্পূর্ণ ছাড় দিয়ে দেন। এর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট এক কৃষককে অফিসে ডেকে এনে সার বুঝিয়ে দিয়ে পুরো ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়।
ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, এলাকায় যখন সরকারি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই ডিলারের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সার অন্যত্র পাচার হয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সময়মতো সার না পেয়ে হাহাকার করলেও, কৃষি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রহস্যজনক কারণে প্রভাবশালী ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। উল্টো ভুক্তভোগী সাধারণ কৃষককে ব্যবহার করে সমঝোতার নাটক সাজানো হচ্ছে।
মেসার্স নালী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ শুকুর আলী শিকদার বলেন,যারা আমার কাছ থেকে সার নিয়েছেন তারা আমার পরিচিত, ভুলে চালান রেখে গেছেন।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি পরবর্তীতে তার অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কৃষকেরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।























