ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গাবতলী-মিরপুরে ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি: রাসেলকে জড়ানো নিয়ে আপত্তি, বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন,সভাপতি ইমামুল ইসলাম সিকদার রনি, সাধারণ সম্পাদক মামুন মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শাফায়াত রাব্বি আরাফাতকে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা

মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল,প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হল আজ বৃহস্পতিবার।

‘অন্নপূর্ণার আগমনে’ দেশের মন্দির-মণ্ডপে আনন্দের যে লহর বইছিল, দশমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাকে বিদায় জানালেন অশ্রুজলে।

ঢাকার ২৫৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর ১০টি নির্ধারিত ঘাটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট ও নবাববাড়ি ঘাটে।ওয়াইজ ঘাটে বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৫টির বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে।এছাড়া লালকুঠি ঘাট, তুরাগের ধউর ঘাট, মিল ব্যারাক ঘাট, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট, আমিনবাজার ব্রিজ ঘাট, বসিলা ব্রিজ ঘাট এবং বালু নদের কয়েত পাড়া ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব দৈনিক নাগরিক কন্ঠকে বলেন, “সবাইকে নিয়ে আমরা দুর্গোৎসবে মেতেছিলাম। দেবীর কাছে আমরা প্রার্থনা করেছি। সবার জন্য মঙ্গল কামনা করেছি। আগামী বছর দেবী আসবেন, আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।”এবারের পূজায় কেবল ঢাকায় গতবারের তুলনায় সাতটি বেড়ে মোট ২৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সারাদেশে মোট মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা গতবারের তুলনায় প্রায় হাজারখানেক বেশি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে গজে, অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস হল, গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়। আর দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়লেন দোলায় চড়ে। দোলায় দেবীর গমনকে মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত ধরা হয়।
দশমীর দিন সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীরা আরাধনা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টার পর থেকে দশমীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দশমীর আনুষ্ঠানিকতা হয়। পরে দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন হয়। দুপুরে শুরু হয় সধবাদের সিঁদুর খেলা। এ সময় আনন্দ-উল্লাসে মাতেন ভক্তরা।বিকেলে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় পলাশীর মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। ভক্তরা পথে পথে নেচে-গেয়ে বিদায় জানান ত্রিনয়নীকে।পথে পথে ভক্তরা স্লোগান দেন- ‘বলো দুগগা মা কি, জয়’/ ‘আসছে বছর আবার হবে’।

এবার পূজা শুরু হয়েছিল গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে। টানা পাঁচ দিনের আনন্দ উৎসবের পর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হল।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘পিতৃগৃহ’ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে তার ‘স্বামীর’ ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে।

মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৫:২০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
১২৯ বার পড়া হয়েছে

মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায়

আপডেট সময় ০৫:২০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

ষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের যে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছিল,প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তা শেষ হল আজ বৃহস্পতিবার।

‘অন্নপূর্ণার আগমনে’ দেশের মন্দির-মণ্ডপে আনন্দের যে লহর বইছিল, দশমী তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাকে বিদায় জানালেন অশ্রুজলে।

ঢাকার ২৫৪টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদীর ১০টি নির্ধারিত ঘাটে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে বিনা স্মৃতি স্নান ঘাট, ওয়াইজ ঘাট ও নবাববাড়ি ঘাটে।ওয়াইজ ঘাটে বিকেল ৩টার পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ১৫টির বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে।এছাড়া লালকুঠি ঘাট, তুরাগের ধউর ঘাট, মিল ব্যারাক ঘাট, পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট, আমিনবাজার ব্রিজ ঘাট, বসিলা ব্রিজ ঘাট এবং বালু নদের কয়েত পাড়া ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, নৌ-পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব দৈনিক নাগরিক কন্ঠকে বলেন, “সবাইকে নিয়ে আমরা দুর্গোৎসবে মেতেছিলাম। দেবীর কাছে আমরা প্রার্থনা করেছি। সবার জন্য মঙ্গল কামনা করেছি। আগামী বছর দেবী আসবেন, আমরা সেই অপেক্ষায় থাকব।”এবারের পূজায় কেবল ঢাকায় গতবারের তুলনায় সাতটি বেড়ে মোট ২৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সারাদেশে মোট মণ্ডপের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, যা গতবারের তুলনায় প্রায় হাজারখানেক বেশি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে গজে, অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। সনাতন ধর্মের বিশ্বাস হল, গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়। আর দশমীতে দেবী মর্ত্যলোক ছাড়লেন দোলায় চড়ে। দোলায় দেবীর গমনকে মহামারী বা মড়কের ইঙ্গিত ধরা হয়।
দশমীর দিন সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীরা আরাধনা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টার পর থেকে দশমীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে দশমীর আনুষ্ঠানিকতা হয়। পরে দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জন হয়। দুপুরে শুরু হয় সধবাদের সিঁদুর খেলা। এ সময় আনন্দ-উল্লাসে মাতেন ভক্তরা।বিকেলে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় পলাশীর মোড় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। ভক্তরা পথে পথে নেচে-গেয়ে বিদায় জানান ত্রিনয়নীকে।পথে পথে ভক্তরা স্লোগান দেন- ‘বলো দুগগা মা কি, জয়’/ ‘আসছে বছর আবার হবে’।

এবার পূজা শুরু হয়েছিল গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে। টানা পাঁচ দিনের আনন্দ উৎসবের পর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হল।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘পিতৃগৃহ’ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যাচ্ছেন কৈলাসে তার ‘স্বামীর’ ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে।

মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।