ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গাবতলী-মিরপুরে ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি: রাসেলকে জড়ানো নিয়ে আপত্তি, বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন,সভাপতি ইমামুল ইসলাম সিকদার রনি, সাধারণ সম্পাদক মামুন মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শাফায়াত রাব্বি আরাফাতকে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন: পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগে ৩ জন গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ৮৩ ল্যাপটপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, স্টোরে রাখা ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করতেই ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসমাউল ইসলাম অধিদপ্তরের মাস্টাররোলভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি বোরকা পরে স্টোর রুমে প্রবেশ করে আগুন দেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ কাজে তার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আসমাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস এবং মাস্টাররোলভুক্ত স্টোর কিপার হুয়ামুন কবীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া হৃদয় নামে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আগুন দেওয়ার জন্য আসমাউলকে ৫ লাখ টাকার চুক্তির প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা আগাম দেওয়া হয়, যা দিয়ে তিনি বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য সংরক্ষিত ছিল মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ। অগ্নিকাণ্ডে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ২৯টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত রয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে হিসাব অনুযায়ী ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে সেখান থেকে কোনো মালামাল সরানোর প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও অন্যান্য মালামালের ক্ষতি করতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে একজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়েছে।
তদন্ত চলমান থাকায় এ ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্র ও উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ট্যাগস :
আপডেট সময় ০৫:৪২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
৫০ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন: পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগে ৩ জন গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ৮৩ ল্যাপটপ

আপডেট সময় ০৫:৪২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টোর রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ তুলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, স্টোরে রাখা ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করতেই ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে’ আগুন দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসমাউল ইসলাম অধিদপ্তরের মাস্টাররোলভুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তিনি বোরকা পরে স্টোর রুমে প্রবেশ করে আগুন দেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এ কাজে তার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আসমাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্টোর ইনচার্জ জিনাত আলী বিশ্বাস এবং মাস্টাররোলভুক্ত স্টোর কিপার হুয়ামুন কবীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া হৃদয় নামে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আগুন দেওয়ার জন্য আসমাউলকে ৫ লাখ টাকার চুক্তির প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা আগাম দেওয়া হয়, যা দিয়ে তিনি বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার ভোরে অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে মাঠপর্যায়ে বিতরণের জন্য সংরক্ষিত ছিল মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ। অগ্নিকাণ্ডে ১৪০টি ল্যাপটপ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ২৯টি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ৪৫০টি ল্যাপটপ অক্ষত রয়েছে বলে জানানো হয়।

তবে হিসাব অনুযায়ী ৮৩টি ল্যাপটপের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও সিসিটিভি ফুটেজে সেখান থেকে কোনো মালামাল সরানোর প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, “স্টোররুমে রক্ষিত ল্যাপটপ ও অন্যান্য মালামালের ক্ষতি করতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে একজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের আটক করা হয়েছে।
তদন্ত চলমান থাকায় এ ঘটনার মূল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্র ও উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।