ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গাবতলী-মিরপুরে ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি: রাসেলকে জড়ানো নিয়ে আপত্তি, বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে চ্যালেঞ্জ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে টোকিও গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন,সভাপতি ইমামুল ইসলাম সিকদার রনি, সাধারণ সম্পাদক মামুন মিরপুরে পুলিশের চেকপোস্টে সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা, বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে সাংবাদিকের বাবা হত্যা মামলার প্রধান আসামি তুহিন গ্রেফতার সাতক্ষীরার তালায় গোবরের গর্তের পানিতে পড়ে দুই বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেল ছাড়াই নরম ও ফুলকো আলুর পরোটা তৈরির সহজ রেসিপি মাগুরায় বাস-অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ: ভিবিডির ৪ স্বেচ্ছাসেবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে শাফায়াত রাব্বি আরাফাতকে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় তারেক রহমানের বক্তব্য  সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বের আহবান 

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকট নিরসনে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, তৈরি করছে জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। এসব পরিস্থিতিতে সংঘাতের সমাধান সামরিক শক্তির পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায়সংগত আচরণ, পারস্পরিক স্বার্থের সুরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদা। জাতিসংঘকে পারস্পরিক বোঝাপড়াভিত্তিক এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বিশ্ব প্রত্যাশা করে, যেখানে পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে মারণাস্ত্র নয়; বরং যুক্তি, বিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একই সঙ্গে তিনি সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে সম্পদ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি অধিক নিরাপদ ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৫ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় তারেক রহমানের বক্তব্য  সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্বের আহবান 

আপডেট সময় ১১:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকট নিরসনে আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, তৈরি করছে জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। এসব পরিস্থিতিতে সংঘাতের সমাধান সামরিক শক্তির পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে করার ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, সংঘাতপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, ন্যায়সংগত আচরণ, পারস্পরিক স্বার্থের সুরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদা। জাতিসংঘকে পারস্পরিক বোঝাপড়াভিত্তিক এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বিশ্ব প্রত্যাশা করে, যেখানে পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে মারণাস্ত্র নয়; বরং যুক্তি, বিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একই সঙ্গে তিনি সামরিক ব্যয়ের পরিবর্তে উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে সম্পদ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তিনি শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি অধিক নিরাপদ ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।