শহীদের স্বজনদের নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের শুভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ ও স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি স্মৃতিস্তম্ভটির উন্মোচন করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্বজন এবং আহত আন্দোলনকারীরা।
শহীদ পরিবারের সদস্য ও আত্মত্যাগকারীদের সম্মানিত করতেই অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয় তাঁদের। প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচনে অংশ নেন আন্দোলনকালে প্রাণ হারানো কয়েকজন শহীদের মা-বাবা ও স্বজনেরা। ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধাভরে শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত দোয়া ও নীরবতা পালনে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক রক্তঝরা অধ্যায়। আজ যে মুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে, তার মূল ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন আমাদের বীর শহীদেরা। শহীদের স্বজনদের অশ্রু ও আত্মত্যাগ আমাদের দায়িত্ববোধকে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেয়। এই স্মৃতিস্তম্ভ কেবল কোনো পাথরের ভাস্কর্য নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতীক।”
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে শহীদ স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শহীদের স্মৃতিতে নির্মিত এই স্থাপত্যকে তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এ সময় সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্মিত এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটি সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অধিকার আদায় ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

























